আল্লাহর কসম নামায ভিন্ন আল্লাহর নিকট অধিক পছন্দের এমন কোন আমল নেই যার মাধ্যমে আপনি আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারবেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
“তোমরা যত পার যথাসম্ভব নেক আমল করে যাও, আর আমলসমূহের মধ্যে সালাত হলো সর্বোত্তম।”

আল্লাহর কসম! আপনার রোজা, আপনার হজ্জ্ব, আপনার যাকাত বিন্দুমাত্র কাজে আসবে না যদি না আপনার নামায ঠিক থাকে।

ক্বিয়ামতের দিন বান্দাকে সর্বপ্রথম তার নামাযের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হবে।

যদি নামায ঠিক থাকে, সুন্দর হয় তবেই আল্লাহ তার অন্যান্য আমলগুলোর দিকে নজর দিবেন।
আর যদি তা না হয়……

“তারা (দুনিয়ায়) যে আমল করেছিল আমি সেদিকে অগ্রসর হব। অতঃপর তাকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করে দেব।” (আল ফুরকান-২৩)

যখন আল্লাহ সুবাহানু ওয়া তা’আলা রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর এই আয়াত নাযিল করলেন-
“অতঃপর তাদের পর এল অপদার্থ পরবর্তীরা, তারা তাদের সালাত বিনষ্ট করল এবং কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করল। তারা অচিরেই ধ্বংসের সম্মুখীন হবে।” (সূরা মারইয়াম-৫৯)

তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাঁদতে লাগলেন আর বললেন –
“হে জিবরাঈল! আমার উম্মতও কি তাদের নামাযে অবহেলা করবে??”

জিবরাইল (আঃ) বললেন-
“হ্যা, শেষ যামানায় আপনার উম্মতের মধ্য হতে এক বিশাল দল নামাযের সময় অতিক্রান্ত হওয়া পর্যন্ত তাদের নামাযে অবহেলা করবে এবং তারা তাদের কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করবে”

এভাবেই আজ আমাদের নামায উপেক্ষিত হচ্ছে, হারাম সংঘটিত হচ্ছে।

কীভাবে আমরা সৎ গুনাবলীর অধিকারী হব এবং সৎ ও নৈতিক গুনাবলী সম্পন্ন সমাজ গড়ে তুলব যেখানে আমরা আমাদের নামাযই সংরক্ষণ করছিনা????

নামাযই কি মানুষকে অশ্লীলতা,অনৈতিকতা ও পাপকার্য হতে বিরত রাখেনা???

আল্লাহর নিকট নামাযের যে গুরুত্ব ও মর্যাদা তা অনুধাবন করার জন্য একটি আসমানী বিধানের কথা উল্লেখ করাই যথেষ্ট হবে।

এটাই কি যথেষ্ট নয় যে, আল্লাহ সাত আসমানের উপর থেকে নামাযকে আমাদের জন্য ফরজ করেছেন???

প্রথমে আল্লাহ দৈনিক ৫০ ওয়াক্ত নামায আদায়ের হুকুম দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে একে কমিয়ে ৫ ওয়াক্ত করা হয়। কিন্ত ৫০ ওয়াক্তের সমান পুরস্কার বহাল রাখা হয়।

৫ ওয়াক্ত নামায, যার পুরস্কার ৫০ ওয়াক্তের সমান।

নামায হল নূর…. তাহলে কীভাবে তুমি স্বেচ্ছায় অন্ধকারে পথ চলতে পার??

নানা দুশ্চিন্তা ও দুঃখ-দুর্দশা নিয়ে যাদের অসংখ্য অভিযোগ তাদের চিকিৎসা হল নামায কায়েমকারীদের কাতারে শামিল হয়ে যাওয়া।
আজ আমাদের চারপাশে যুবক/যুবতীরা যে করুন পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে তার সমাধান হল পরম করুনাময় আল্লাহর ইবাদাতে লিপ্ত হওয়া একনিষ্ঠভাবে।

“তারা কি কখনো ভেবে দেখে না যে তাদেরকে পুনরায় জীবিত করা হবে?” (সূরা আল মুতাফফিফিন- ৮৯:৪)

আল্লাহর কসম, আপনার অন্তর যদি এখনো জীবিত থাকত তবে যা হারিয়েছে তার বেদনায় তা ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যেত।
কিন্তু অন্তর আজ দুনিয়ার নেশায় মাতাল হয়ে আছে আর একটি নির্দিষ্ট সময় পর তা জেগে উঠবে।

কবে তুমি নামায আদায়কারীদের কাতারে শামিল হবে?

আর তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে যারা তাদের নামাযে দৃঢ়, অবিচল থাকে, আর যারা সতর্কভাবে, মনোযোগ সহকারে নামায আদায় করে???
কবে তুমি সঠিক পথে আসবে???
এবং কবে তুমি বুঝবে যে, তাওহীদের (আল্লাহর একত্ববাদ) পর দ্বীনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল নামায কায়েম করা এবং দ্রুত মসজিদে গমন করা ও তাকবীরাত আল ইহরাম এ অংশগ্রহণ করা???

পাঁচ ওয়াক্ত নামায……. যারা আজানের সাথে সাথে পূর্ণ মনোযোগ ও যত্নসহকারে সালাত আদায় করে, সেই সালাত তার জন্য নূর হবে এবং ক্বিয়ামত দিবসে তার জন্য সাক্ষী হবে।
তাই যে বা যারাই একে হারালো, এই দায়ভার আর কারো নয় বরং তার নিজের উপরই বর্তাবে,,,…!

ইয়া আল্লাহ! আমাদের সবাইকে পরিপূর্ণ মনোযোগ ও যত্ন সহকারে ৫ ওয়াক্ত নামায জামাতের সাথে আদায় করার তাওফিক দান করুন।