শুরু হচ্ছে নতুন বছর ১৪৪১ হিজরি। নতুন বছরকে প্রাণ ভরে স্বাগত জানাই আমরা। নতুন বছরে সব কিছুই হোক নতুন করে । আনন্দ ও সুন্দরের হোক প্রতিটি কাজ ও পদক্ষেপ। এমন প্রত্যাশাই হওয়া উচিৎ সকলের। পেছনে যা পরে আছে অশুভ, অসুন্দর আমরা তার সব ভুলে যেতে চাই। ভুল-ত্রুটি সব ভুলে নিজেকে শুধরে নেবার দৃঢ় প্রত্যয় হোক প্রথম দিন থেকেই। নতুন মুকুলের মতোই অনিন্দ্য সুন্দর ও পবিত্রতায় ভরে উঠুক আমাদের জীবন।

হিজরী সনের সূচনা : আমাদের প্রিয় নবী পেয়ারে হাবীব হযরত মুহাম্মদ(সাঃ) মক্কার ক্বুরায়েশদের দ্বারা নির্যাতিত হয়ে মক্কা থেকে মদীনা চলে যান। নিপীড়িত হয়ে তার এই জন্মভূমি ত্যাগ করার ঘটনাকে ইসলামে ‘হিজরত’ আখ্যা দেয়া হয়। রাসুল মুহাম্মদ (সা:)-এর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের ঘটনাকে চিরস্মরণীয় করে রাখার উদ্দেশ্যেই হিজরী সাল গণনার সূচনা। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা:)-এর শাসনামলে ১৭ই হিজরী অর্থাৎ রাসুল মুহাম্মদ (সা:)-এর মৃত্যুর সাত বছর পর চন্দ্র মাসের হিসাবে এই পঞ্জিকা প্রবর্তন করা হয়। হিজরতের এই ঐতিহাসিক তাৎপর্যের ফলেই হযরত ওমর রা. এর শাসনামলে যখন মুসলমানদের জন্য পৃথক ও স্বতন্ত্র পঞ্জিকা প্রণয়নের কথা উঠে আসে তখন তাঁরা সর্বসম্মতভবে হিজরত থেকেই এই পঞ্জিকার গণনা শুরু করেন। যার ফলে চন্দ্রমাসের এই পঞ্জিকাকে বলা হয় ‘হিজরী সন’।

প্রথম মাস মহররম : ইসলামী বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররম। নানা কারণে ইসলামী বর্ষপঞ্জির অত্যন্ত গুরুত্যপূর্ণ। এরমধ্যে অন্যতম হল আশুরা। ইসলামী পরিভাষায় আরবি বর্ষপঞ্জি হিজরি সনের প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখকে আশুরা বলে। মুসলিম উম্মাহর কাছে এ দিনটি একই সঙ্গে ধর্মীয়ভাবে গভীর তাৎপর্যময় ও বেদনাদায়ক। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার যুদ্ধে ৬১ হিজরি সনের এই দিনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা.-এর প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হুসাইন রাঃ ইরাকের ফোরাত নদী তীরের কারবালা প্রান্তরে পরিবারের সদস্য ও সঙ্গীসহ শাহাদাত বরণ করেন।

বছরের সবক’টি দিনের মধ্যে দশ মহররমের গুরুত্ব ও ফজিলত অনেক বেশি। হজরত মুসা আলাইহিস সালাম তার সম্প্রদায়কে নিয়ে আশুরার দিন রোজা রাখতেন। হজরত নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও এ দিন অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে রোজা রাখতেন।-(সহিহ বোখারি: ১৯০২)

এক হাদীসে আছে রাসুল সা: মদীনায় এসে দেখলেন এই দিনে ইহুদিরাও রোযা রাখে। তখন রাসুল সা. বললেন, তোমরা আশুরার রোজা রাখ এবং ইহুদিদের সাদৃশ্য পরিত্যাগ কর, আশুরার আগে ও পরে আরও একদিন রোজা রাখ। -মুসনাদে আহমাদ: ১/২৪১। তাই উম্মতে মুহাম্মদী আশুরার এ আমলকে রাসুল সা.-এর পদ্ধতি অনুসারেই পালন করে থাকে। ১০ তারিখের আগে বা পরে যে কোনও একদিন মিলিয়ে আমলটি করা হয়।