যতই দিন যাবে, রোহিঙ্গাদের কারণে নিরাপত্তা হুমকিতে পড়বে বাংলাদেশ। আর এখন রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানও বেশ জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, মিয়ানমার দু-চার হাজার লোক ফেরত নিলে কূটনৈতিকভাবে বাংলাদেশের জন্য তা মোটেই ইতিবাচক হবে না।

২৫শে আগস্ট নতুন করে বাংলাদেশে উদ্বাস্তু হয়ে আসার দ্বিতীয় বার্ষিকীতে বড় জনসমাবেশ করে রোহিঙ্গারা। সেখান থেকে প্রত্যাবাসনের জন্য সুস্পষ্ট পাঁচটি শর্ত তুলে ধরে তারা। অনেকেই বিস্মিত তাদের এই বিপুল জনসমাগম দেখে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এতে ক্ষতির কিছু নেই। বরং বিশ্ব জানতে পারবে রোহিঙ্গারা সংগঠিত হচ্ছে। তাদের নাগরিকত্ব দিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ তৈরি করবে।

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন বলেন, এতো দিন ধরে সবার মধ্যে একটা ধারণা ছিল যে তাদের মধ্যে কোন নেতৃত্ব নেই। কিন্তু তাদের সমাবেশ দেখে বুঝা গেছে তাদের মধ্যে একটা একতা ও নেতৃত্ব আছে, যদি নেতৃত্ব থাকে তাহলে তাদের মাধ্যমে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আমার মনে হয় সেটাই করা উচিত। আর আমাদেরকে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে হবে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ইসফাক ইলাহী চৌধুরী বলেন, আমি মনে করি যে তারা আইন শৃঙ্খলার বিশৃঙ্খল না করে তাদের দাবি-দাওয়াগুলো প্রকাশ করেছে সেটি বহির্বিশ্বকে জানানো উচিত।

মিয়ানমারের দু’চার হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেয়া হবে লোক দেখানো। এতে বাংলাদেশের কূটনৈতিকভাবে কোন লাভ হবে না বলে মনে করেন সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন।

তিনি বলেন,মিয়ানমার এটাকে একটি পিআর হিসেবে নিয়েছে যে তারা যদি এই দুই-তিন হাজার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় তাহলে তারা বিশ্বকে বলতে পারবে যে আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে মিলে এই সমস্যা সমাধান করছি। আসলে তারা লোক দেখানোর জন্যই এই কয়জনকে ফিরিয়ে নিচ্ছে।

আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেন, যারা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত হবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিছু লোক বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করেছে তাদের আমরা গ্রেপ্তার করেছি। তাদের ব্যাপারে আমরা তথ্য নিচ্ছি। যারাই বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করবে তাদেরকেই আমরা বের করে দিব, শাস্তি দিব।

এছাড়া, বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি এবং রোহিঙ্গা নেতাদের রাখাইন নিয়ে গিয়ে সেখানকার পরিস্থিতি দেখানোর আহ্বান জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।