মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসঙ্ঘের হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচিলেট ভারতের কাশ্মির ও আসাম এবং অন্যান্য অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তিনি কাশ্মিরের ভবিষ্যৎ জড়িয়ে আছে এমন যেকোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে স্থানীয় অধিবাসীদের সাথে আলাপ করা, আসামের নাগরিকপঞ্জির তালিকা থেকে বাদ পড়া মানুষের আপিল যথাযথভাবে নিষ্পত্তি ও রাষ্ট্রহীনতা থেকে রক্ষা করা এবং মিয়ানমারে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সাথে জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।

জেনেভায় গতকাল সোমবার জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ৪২তম অধিবেশনের উদ্বোধনীতে মিশেল ব্যাচিলেট এই অভিমত ব্যক্ত করেন। মিয়ানমারের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে জাতিসঙ্ঘের গঠন করা স্বাধীন তদন্ত কাঠামোর (আইআইএম) প্রধান নিকোলাস কোমজিয়ান এই অধিবেশনে প্রথমবারের মতো বক্তব্য দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক অপরাধবিষয়ক আইনজীবী নিকোলাস কোমজিয়ানকে গত এপ্রিলে আইআইএমের প্রধান হিসেবে ঘোষণা দেয় জাতিসঙ্ঘ।

মিশেল ব্যাচিলেট বলেন, কাশ্মিরে স্থানীয় নেতাদের গ্রেফতার, সমাবেশে বাধা ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়াসহ ভারত সরকারের নেয়া সাম্প্রতিক পদক্ষেপে মানবাধিকারের ওপর প্রভাব নিয়ে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে আমি ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশকেই আহ্বান জানাচ্ছি। মানুষের মৌলিক সেবাগুলো পাওয়ার জন্য কারফিউ প্রত্যাহারসহ কাশ্মিরের অচলাবস্থা নিরসনে ভারত সরকারের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।

কাশ্মিরের ভবিষ্যৎ জড়িয়ে আছে এমন যেকোনো সিদ্ধান্ত স্থানীয় অধিবাসীদের সাথে আলাপ করে নেয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, আসামের নাগরিকপঞ্জি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। গত ৩১ আগস্ট প্রকাশিত নাগরিকপঞ্জির চূড়ান্ত তালিকায় ১৯ লাখ মানুষ বাদ পড়েছে। তালিকা থেকে বাদ পড়া এসব মানুষের আপিল যথাযথভাবে নিষ্পত্তি ও রাষ্ট্রহীনতা থেকে রক্ষা করতে ভারত সরকারের প্রতি আমি আহ্বান জানাচ্ছি।