আমাজনের আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য সেখানে সেনাবাহিনী পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো। সেনা মোতায়েনের বিষয়টি দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ব্রাজিলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফার্নান্দো আজেভেদোকে।

ইউরোপীয় দেশগুলোর তীব্র চাপের মুখে অনেকটা বাধ্য হয়েই বোলসোনারো এই পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে ধারণা করছেন পর্যবেক্ষকরা। প্রাথমিকভাবে ২৪ আগস্ট থেকে এক মাসের জন্য সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আমাজনে চলতি বছরের রেকর্ড অগ্নিকাণ্ডের কারণ ইউরোপ বা উত্তর আমেরিকার বড় অগ্নিকাণ্ডগুলোর মতো নয়। সেখানে মূলত বন বিনাশের উদ্দেশ্যেই গাছপালায় আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

গতকাল শুক্রবার আমাজনের আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য সেখানে সেনাবাহিনী পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ইউরোপীয় দেশগুলোর তীব্র চাপের মুখে অনেকটা বাধ্য হয়েই বোলসোনারো এ পদক্ষেপ নিয়েছেন। টানা কয়েক দিনের অগ্নিকাণ্ডের পরও ব্রাজিলের তরফ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে না পেয়ে ফ্রান্স ও আয়ারল্যান্ড দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি অনুমোদন না করার হুমকি দেয়। ব্রাজিল ছাড়াও ওই চুক্তিতে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়ে আছে। আর গো-মাংস আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি বিবেচনা করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) অনুরোধ করে ফিনল্যান্ড।

ইউরোপের নেতাদের এমন অবস্থানের পর বোলসোনারো বলেছেন, দাবানল শাস্তিমূলক ব্যবস্থার অজুহাত হতে পারে না।
পরিবেশবাদীরা বলছেন, বোলসোনারোর আমাজননীতির কারণেই এবারের এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। এ নীতি কাঠুরে ও চোরাকারবারিদের বন উজাড়ে উৎসাহ দিচ্ছে।

কেন জ্বলছে আমাজন : ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘ইনপে’র সমীক্ষা মতে, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে আমাজন রেইন ফরেস্টে ৭২ হাজার ৮৪৩টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। গত বছরের এই সময়ের তুলনায় যা ৮৩ শতাংশ বেশি এবং ২০১৩-র তুলনায় দ্বিগুণ। আমাজনে লাগা আগুনের ধোঁয়ার বলি হচ্ছে আশপাশের শহরগুলো। আড়াই হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ব্রাজিলের সাও পাওলোসহ বেশ কয়েকটি শহর দিনের বেলায় অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

লরেন্স বার্কলে ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানী ও বৃষ্টি-অরণ্য বিশেষজ্ঞ জেফ্রি চ্যাম্বার্স বলেন, এই গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে ভূমির পরিমাণ বাড়াতে ব্যাপকভাবে আগুন ব্যবহৃত হয়। কিছু কৃষিবর্জ্যও এর জন্য দায়ী। প্রাকৃতিক কারণে অগ্নিকাণ্ডের তেমন ঘটনা ঘটে না। সাধারণত বৃষ্টি-অরণ্যে অগ্নিপ্রবণতা দেখা যায় না।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক পাওলো ব্র্যান্ডো মনে করেন, ‘আগুন দিয়ে বন বিনাশের বিষয়টি এখন দৃশ্যমান হয়েছে। চূড়ান্তভাবে বন উজাড়ের জন্য অগ্নিসংযোগের ঘটনা আপনি দেখতে পেতে পারেন। ’ সূত্র : এএফপি, বিবিসি।